flexile-white-logo

কখনো কি বিক্ষোভে বন্ধ রাস্তায় গাড়ি চালিয়েছেন বা সংঘর্ষের ধ্বংসাবশেষ এড়িয়ে গেছেন? রাজনৈতিক অস্থিরতা—হিংসা, দুর্নীতি, এবং অবকাঠামোর অবনতি—সড়ককে মৃত্যুপথে পরিণত করে। ২০২৫ সালে, বিশ্বব্যাপী অশান্তি পরিবহন নেটওয়ার্ককে বিপর্যস্ত করেছে। আফগানিস্তানের যুদ্ধবিধ্বস্ত রিং রোড থেকে হাইতির গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত রুট ন্যাশনাল ২, এই সড়কগুলো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মারাত্মক প্রভাব তুলে ধরে। এই তালিকায় আমরা এমন ১০টি সড়ক নিয়ে আলোচনা করব, যেখানে অস্থিরতা মৃত্যুর হার বাড়ায়।

১. কাবুল-কান্দাহার হাইওয়ে (রিং রোড, এনএইচ১) – আফগানিস্তান

আফগানিস্তানের ৪৮৩ কিমি লম্বা কাবুল-কান্দাহার হাইওয়ে, রিং রোডের অংশ, খানাখন্দক আর তালেবানের আক্রমণে ক্ষতবিক্ষত। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর রাজনৈতিক অস্থিরতায় বছরে ২০০টির বেশি আক্রমণ ঘটে (আফগানিস্তান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়, ২০২৪)। ২০২৩ সালে ১৫০টি দুর্ঘটনায় ৮০ জনের মৃত্যু হয়। ডাকাতি, মিলিশিয়া চেকপোস্ট, এবং ড্রোন হামলার ক্ষতি এর ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২২ সালে একটি কনভয় আক্রমণে ১২ জন নিহত হয়। সাঁজোয়া গাড়ি এবং সশস্ত্র এসকর্ট এখানে অপরিহার্য।

২. রুট ন্যাশনাল ২ – হাইতি

হাইতির পোর্ট-অ-প্রিন্স থেকে লে কায়ে পর্যন্ত ১৭৮ কিমি রুট ন্যাশনাল ২ গ্যাংদের নিয়ন্ত্রণে। ২০২১ সালের রাষ্ট্রপতি হত্যার পর অশান্তিতে বছরে ২,০০০টির বেশি খুন হয়, যার মধ্যে ৩০০টি সড়ক-সংক্রান্ত (হাইতি জাতীয় পুলিশ, ২০২৪)। গ্যাংরা রাস্তা অবরোধ করে, লুটপাট করে, এবং চালকদের অপহরণ করে। ২০২৩ সালে ৫০টির বেশি অবরোধ ঘটে। বন্যা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২২ সালে একটি গ্যাং হামলায় ৮ জন নিহত হয়। সশস্ত্র কনভয় এবং রিয়েল-টাইম সুরক্ষা সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি।

৩. এন১ (উহুরু হাইওয়ে) – নাইরোবি, কেনিয়া

নাইরোবির ১২ কিমি এন১ (উহুরু হাইওয়ে) বছরে ২০০টি দুর্ঘটনা এবং ৫০টি মৃত্যু দেখে (কেনিয়া এনটিএসএ, ২০২৪)। জাতিগত হিংসা এবং নির্বাচনী বিরোধ, যেমন ২০০৭ সালের সংঘর্ষে ১,০০০ জনের মৃত্যু, রাস্তায় বিক্ষোভ আর ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি করে। ২০১৯ সালে রাস্তার কাছে সন্ত্রাসী হামলায় ২১ জন নিহত হয়। দুর্নীতির কারণে রক্ষণাবেক্ষণে ঘাটতি, এবং ভিড় ঝুঁকি বাড়ায়। ২০২৫ সালে ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও, বিক্ষোভ এলাকা এড়ানো জরুরি।

৪. এম৯ (বাল্টিয়া হাইওয়ে) – মস্কো, রাশিয়া

মস্কো থেকে বাল্টিক দেশগুলোর সাথে সংযোগকারী ১,৩০০ কিমি এম৯ হাইওয়ে বছরে ৪০০টি দুর্ঘটনা এবং ১২০টি মৃত্যু দেখে (রাশিয়া ট্রাফিক পুলিশ, ২০২৪)। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর নিষেধাজ্ঞা রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত করে, আর বিক্ষোভ ও সাইবার হামলা ট্রাফিক জট সৃষ্টি করে। ২০১৮ সালে রাস্তার কাছে গুপ্তচর হত্যার ঘটনা নিরাপত্তা বিশৃঙ্খলা বাড়ায়। জিপিএস এবং বিকল্প রুট এখানে অপরিহার্য।

৫. এন২ (ন্যাশনাল রুট ২) – পূর্ব কেপ, দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন থেকে ডারবান পর্যন্ত ২,২৫৫ কিমি এন২ সড়কে বছরে ৬০০টি দুর্ঘটনা এবং ১৮০টি মৃত্যু হয় (সানরাল, ২০২৪)। সেবা সরবরাহ বিক্ষোভ এবং বিদেশী-বিদ্বেষী দাঙ্গা, যেমন ২০১৯ সালের লুটপাট, রাস্তা অবরোধ করে। ২০১৫ সালে ট্যাক্সি যুদ্ধে ১৫ জন নিহত হয়। দুর্নীতি মেরামত বিলম্বিত করে। রিয়েল-টাইম ট্রাফিক অ্যাপ এবং অশান্ত এলাকা এড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

৬. ই৫ (ও-১ মোটরওয়ে) – ইস্তাম্বুল, তুরস্ক

ইস্তাম্বুলের ৪৫ কিমি ই৫ হাইওয়ে বছরে ৩০০টি দুর্ঘটনা এবং ৯০টি মৃত্যু দেখে (তুরস্ক হাইওয়ে অধিদপ্তর, ২০২৪)। ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান এবং বিক্ষোভ ট্রাফিক ব্যাহত করে, আর ২০১৭ সালে রাস্তার কাছে নাইটক্লাবে হামলায় ৩৯ জন নিহত হয়। ভিড়ে সময়ের ৫৩% নষ্ট হয়। নিরাপত্তা এসকর্ট এবং অফ-পিক সময়ে ভ্রমণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

৭. এন১ (মার্জিনাল টিয়েটে) – সাও পাওলো, ব্রাজিল

সাও পাওলোর টিয়েটে নদীর তীরে ২৩ কিমি এন১ সড়কে বছরে ২৫০টি দুর্ঘটনা এবং ৭০টি মৃত্যু হয় (ব্রাজিল সিইটি, ২০২৪)। ২০১৮ সালে ট্রাকারদের ধর্মঘট রাস্তা অবরোধ করে, যা ২০টি মারাত্মক ঘটনার কারণ হয়। দুর্বল আলো এবং বাঁক ঝুঁকি বাড়ায়। ২০১৯ সালে রাস্তার কাছে গুলিবর্ষণে ১০ জন নিহত হয়। ট্রাফিক অ্যাপ এবং রাত এড়ানো জরুরি।

৮. এ২ (অ্যান্ট্রিম রোড) – বেলফাস্ট, উত্তর আয়ারল্যান্ড

বেলফাস্টের ১০ কিমি এ২ সড়কে বছরে ৫০টি দুর্ঘটনা এবং ১৫টি মৃত্যু হয় (পিএসএনআই, ২০২৪)। ধর্মীয় হিংসা এবং ব্রেক্সিট উত্তেজনা, যেমন ২০২১ সালের সীমান্ত বিরোধ, বিক্ষোভ সৃষ্টি করে। ১৯৭১ সালে রাস্তায় বোমা হামলায় ৪ জন নিহত হয়। পুরনো অবকাঠামো এবং ভিড় ঝুঁকি বাড়ায়। রিয়েল-টাইম সতর্কতা এবং বিক্ষোভ এলাকা এড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৯. লাগোস-ইবাদান এক্সপ্রেসওয়ে – নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ার ১২৭ কিমি লাগোস-ইবাদান এক্সপ্রেসওয়ে বছরে ১,০০০টি দুর্ঘটনা এবং ৩০০টি মৃত্যু দেখে (এফআরএসসি, ২০২৪)। বোকো হারামের হামলা এবং অপহরণ, যেমন ২০২৩ সালে ২০টি অপহরণ, ভ্রমণ ব্যাহত করে। জ্বালানি ভর্তুকি বিরোধী বিক্ষোভ রাস্তা অবরোধ করে, যা ৫০টির বেশি মারাত্মক ঘটনার কারণ। দুর্নীতি মেরামত বিলম্বিত করে। সশস্ত্র এসকর্ট এবং দিনের বেলা ভ্রমণ অপরিহার্য।

১০. কাবুল-জালালাবাদ হাইওয়ে – আফগানিস্তান

কাবুল গর্জের ৬৫ কিমি কাবুল-জালালাবাদ হাইওয়ে, ৬০০ মিটার উচ্চতায়, বছরে ১০০টির বেশি দুর্ঘটনা এবং ৬০টি মৃত্যু দেখে (আফগানিস্তান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়, ২০২৪)। তালেবানের হামলা এবং সরু লেনে বেপরোয়া গাড়ি চালানো ঝুঁকি বাড়ায়। ২০১০ সালে একদিনে ১৩টি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে (নিউ ইয়র্ক টাইমস)। চেকপোস্ট এবং ডাকাতি বিপদ বাড়ায়। সাঁজোয়া গাড়ি এবং কনভয় এখানে অত্যন্ত প্রয়োজন।

উপসংহার

আফগানিস্তানের যুদ্ধবিধ্বস্ত হাইওয়ে থেকে হাইতির গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত সড়ক—রাজনৈতিক অস্থিরতা হিংসা, অবহেলা, এবং বিশৃঙ্খলার মারাত্মক মিশ্রণ তৈরি করে। ২০২৫ সালে, এই সড়কগুলো স্থিতিশীলতা, উন্নত অবকাঠামো, এবং কঠোর আইন প্রয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। চালকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা—কনভয়, রিয়েল-টাইম সতর্কতা, এবং দিনের বেলা ভ্রমণ—ব্যবহার করতে হবে, আর সরকারের উচিত অশান্তি নিরসন করা। কোন সড়কের বিপদ আপনাকে সবচেয়ে অবাক করেছে? নিচে মতামত জানান এবং নিরাপদ সড়কের জন্য সোচ্চার হোন।

 

লেখক পরিচিতি

মারুফ রহমান রূপসা টায়ার্সের পরিচালক এবং আইটি ও মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ। তিনি সড়ক, পরিবহন ব্যবস্থা ও যানবাহন সম্পর্কিত বিষয়ে নিয়মিত লিখেন। তার বিশেষ আগ্রহের বিষয়বস্তু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, ইতিহাস, পর্যটন ও সড়ক নিরাপত্তা। তার লেখনীতে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তার লেখার মাধ্যমে সড়ক ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন।

Connect with Maruf:

Facebook | X (Twitter) | LinkedIn | Medium