কখনো কি এমন একটি সেতুর উপর দিয়ে গেছেন যা নিজেই একটি যাত্রার মতো মনে হয়? বিশ্বের দীর্ঘতম সেতুগুলো প্রকৌশলের অসাধারণ কৃতিত্ব, যা নদী, উপসাগর এবং এমনকি সমুদ্র পেরিয়ে দূরবর্তী অঞ্চলকে সংযুক্ত করে। ২০২৫ সালে, এই সেতুগুলো অগ্রগতি, স্থিতিস্থাপকতা এবং উদ্ভাবনের প্রতীক—চীনের রেল জায়ান্ট থেকে থাইল্যান্ডের নগর এক্সপ্রেসওয়ে। বিশ্বের দীর্ঘতম ১০টি সেতু, তাদের বিস্ময়কর দৈর্ঘ্য এবং পেছনের গল্প নিয়ে প্রস্তুত? আসুন এই স্থাপত্য বিস্ময়গুলোর মাধ্যমে সংযোগের নতুন সংজ্ঞা অন্বেষণ করি।
১. দানিয়াং-কুনশান গ্র্যান্ড ব্রিজ – চীন
১৬৪.৮ কিলোমিটার (১০২.৪ মাইল) দৈর্ঘ্যের দানিয়াং-কুনশান গ্র্যান্ড ব্রিজ বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু। বেইজিং-সাংহাই হাই-স্পিড রেলওয়ের অংশ হিসেবে ২০১০ সালে ৮.৫ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, এটি ইয়াংজি নদীর ডেল্টা অতিক্রম করে, ৩০০ কিমি/ঘণ্টা গতির ট্রেন বহন করে। ভূমিকম্প ও টাইফুন সহ্য করার জন্য নির্মিত এই সেতুতে ২,০০০-এর বেশি স্তম্ভ রয়েছে (চায়না রেলওয়ে কর্পোরেশন, ২০২৪)। নানজিং থেকে সাংহাই সংযোগ করে এটি যাতায়াতের সময় ৫০% কমিয়েছে।
২. চাংহুয়া-কাওশিয়ুং ভায়াডাক্ট – তাইওয়ান
তাইওয়ানের ১৫৭.৪ কিলোমিটার (৯৭.৮ মাইল) চাংহুয়া-কাওশিয়ুং ভায়াডাক্ট তাইওয়ান হাই-স্পিড রেলের অংশ। ২০০৭ সালে ১৮ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, এটি ভূমিকম্প ও টাইফুন প্রতিরোধের জন্য সিসমিক ড্যাম্পার ব্যবহার করে (তাইওয়ান এইচএসআর, ২০২৪)। প্রতিদিন ২ লাখ যাত্রী বহন করে এটি ধানক্ষেত ও পাহাড়ের দৃশ্য প্রদান করে। উঁচু নকশা ভূমির ক্ষতি কমায়।
৩. তিয়ানজিন গ্র্যান্ড ব্রিজ – চীন
১১৩.৭ কিলোমিটার (৭০.৬ মাইল) দৈর্ঘ্যের তিয়ানজিন গ্র্যান্ড ব্রিজ, ২০১০ সালে নির্মিত, বেইজিং-সাংহাই হাই-স্পিড রেলওয়ের আরেকটি বিস্ময়। ২.৩ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত এটি জলাভূমি ও মহাসড়ক অতিক্রম করে, ৩২,০০০ কংক্রিট বিম ব্যবহার করে (চায়না রেলওয়ে, ২০২৪)। ৩৫০ কিমি/ঘণ্টা গতির ট্রেনের জন্য নির্মিত, এটি তিয়ানজিন থেকে ল্যাংফাং সংযোগ করে।
৪. ক্যাংডে গ্র্যান্ড ব্রিজ – চীন
১০৫.৮ কিলোমিটার (৬৫.৭ মাইল) দৈর্ঘ্যের ক্যাংডে গ্র্যান্ড ব্রিজ, ২০১০ সালে ২.৭ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, বেইজিং-সাংহাই রেলওয়ের অংশ। হাংঝৌ উপসাগরের জোয়ার অঞ্চল অতিক্রম করে এটি ক্ষয়-প্রতিরোধী উপকরণ ব্যবহার করে (চায়না রেলওয়ে, ২০২৪)। ২,৬০০-এর বেশি স্তম্ভ সহ, এটি প্রতিদিন ১.৫ লাখ যাত্রী বহন করে।
৫. ওয়েইনান ওয়েইহে গ্র্যান্ড ব্রিজ – চীন
৭৯.৭ কিলোমিটার (৪৯.৫ মাইল) দৈর্ঘ্যের এই সেতু, ২০০৮ সালে ১.৮ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, শিয়ান থেকে ঝেংঝৌ সংযোগ করে। ওয়েইহে নদী ১০ বার অতিক্রম করে এটি ২,৩০০ স্তম্ভ ব্যবহার করে (চায়না রেলওয়ে, ২০২৪)। ৩০০ কিমি/ঘণ্টা গতির ট্রেনের জন্য নির্মিত, এটি কিন পর্বতের দৃশ্য প্রদান করে।
৬. ব্যাং না এক্সপ্রেসওয়ে – থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ডের ৫৫ কিলোমিটার (৩৪ মাইল) ব্যাং না এক্সপ্রেসওয়ে, ২০০০ সালে ১ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দীর্ঘতম সেতু। ছয়-লেনের এই উঁচু সড়ক ব্যাংককের যানজট কমায়, প্রতিদিন ২ লাখ গাড়ি বহন করে (থাইল্যান্ডের ডিওএইচ, ২০২৪)। প্রিকাস্ট কংক্রিট নকশা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় সহ্য করে।
৭. বেইজিং গ্র্যান্ড ব্রিজ – চীন
৪৮.২ কিলোমিটার (২৯.৯ মাইল) দৈর্ঘ্যের এই সেতু, ২০১০ সালে ৭০০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত, বেইজিং-সাংহাই হাই-স্পিড রেলওয়ের অংশ। গুয়ানটিং জলাশয় অতিক্রম করে এটি ১,৪০০ স্তম্ভ ব্যবহার করে (চায়না রেলওয়ে, ২০২৪)। প্রতিদিন ১ লাখ যাত্রী বহন করে এটি ভূমিকম্প-প্রতিরোধী।
৮. লেক পন্টচারট্রেইন কজওয়ে – যুক্তরাষ্ট্র
লুইসিয়ানার ৩৮.৪ কিলোমিটার (২৩.৮ মাইল) লেক পন্টচারট্রেইন কজওয়ে, ১৯৬৯ সালে ২০০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত, মেটায়ারি থেকে ম্যান্ডেভিল সংযোগ করে। ৯,৫০০ পাইলিং ব্যবহার করে এটি হারিকেন সহ্য করে, প্রতিদিন ৪৩,০০০ গাড়ি বহন করে (কজওয়ে কমিশন, ২০২৪)। কুয়াশার ঝুঁকি থাকলেও এটি আমেরিকার একটি আইকন।
৯. হংকং-ঝুহাই-ম্যাকাও ব্রিজ – চীন
৫৫ কিলোমিটার (৩৪.২ মাইল) দৈর্ঘ্যের এই সেতু, ২০১৮ সালে ২০ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, পার্ল রিভার ডেল্টায় তিনটি শহর সংযোগ করে। ৬.৭ কিলোমিটার সমুদ্রতলের সুড়ঙ্গ ও কৃত্রিম দ্বীপ সহ, এটি টাইফুন ও ভূমিকম্প সহ্য করে (চীনের এনডিআরসি, ২০২৪)। প্রতিদিন ৪০,০০০ গাড়ি বহন করে এটি পরিবেশবান্ধব নকশা ব্যবহার করে।
১০. লাইন ১ লিসবন ব্রিজ – পর্তুগাল
১৭.২ কিলোমিটার (১০.৭ মাইল) দৈর্ঘ্যের পন্টে ভাস্কো দা গামা, ১৯৯৮ সালে ১.১ বিলিয়ন ডলারে নির্মিত, তাগুস নদী অতিক্রম করে লিসবন থেকে আলকোচেতে সংযোগ করে। ১২০ কিমি/ঘণ্টা বাতাস সহ্য করার জন্য নির্মিত, এটি প্রতিদিন ৫০,০০০ গাড়ি বহন করে (পর্তুগালের ইনফ্রাস্ট্রাকচারাস, ২০২৪)। এটি ইউরোপের দীর্ঘতম সেতু।
উপসংহার
চীনের রেল জায়ান্ট থেকে পর্তুগালের মার্জিত সেতু পর্যন্ত, ২০২৫ সালের এই ১০টি দীর্ঘতম সেতু শুধু পরিবহনের মাধ্যম নয়—এগুলো মানব উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এরা নদী, সমুদ্র ও ঝড় জয় করে মানুষ ও অর্থনীতিকে সংযুক্ত করে। পরবর্তী বার যখন এমন একটি সেতু পার হবেন, প্রকৌশলের বিস্ময়ের কথা ভাবুন। কোন সেতু আপনাকে সবচেয়ে মুগ্ধ করে? নিচে শেয়ার করুন বা এই জায়ান্টগুলো দেখতে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।
লেখক পরিচিতি
মারুফ রহমান রূপসা টায়ার্সের পরিচালক এবং আইটি ও মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ। তিনি সড়ক, পরিবহন ব্যবস্থা ও যানবাহন সম্পর্কিত বিষয়ে নিয়মিত লিখেন। তার বিশেষ আগ্রহের বিষয়বস্তু পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ, ইতিহাস, পর্যটন ও সড়ক নিরাপত্তা। তার লেখনীতে সড়ক নিরাপত্তা ও যানবাহনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তার লেখার মাধ্যমে সড়ক ও পরিবহন খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন।
Connect with Maruf:
Facebook | X (Twitter) | LinkedIn | Medium

Can you be more specific about the content of your article? After reading it, I still have some doubts. Hope you can help me. https://www.binance.info/pl/register?ref=UM6SMJM3